নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পরার পর বৃহস্পতিবার দিনভর নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমানসহ তার অনুসারীদের খাবার টেবিলে এসব আলোচনা করতে দেখা যায়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বজলুর রহমান নামের বিএনপির ওই নেতা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বুধবার রাতে একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়াদাওয়ার এক পর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁও এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। একই ভিডিওতে বজলুর পাশে বসা আরেকজনকে বজলুর কানে কানে বলতে শোনা যায় নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার। তাদের এই কথোপকথনে অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
সুত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সমর্থক হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন বজলুর রহমান। আলাপচারিতার সময় উপস্থিত প্রত্যেকেই নির্বাচনে এ প্রার্থীর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে বজলু রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুল রহমানের দাবি, তিনি অবশ্যই বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন। বিএনপির পদে থেকে অন্য কিছু ভাবা যায় না। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়ন পাওয়ার পর তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার কিছু শত্রু রয়েছে। অস্ত্রের আলোচনার বিষয়টি তার নিবন্ধনকৃত অস্ত্রের বিষয়ে কথা হচ্ছিল। একটি অস্ত্র নিবন্ধন আছে, আরেকটি অস্ত্র নিবন্ধন নিতে পারলে তার নিরাপত্তা জোরদার হতো। এমন আলোচনা হয়েছে। এটিকে রং লাগিয়ে রাঙানো চেষ্টা করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের দাবি, ভিডিওতে থাকা বজলুর রহমান বিএনপি প্রার্থী মান্নানের এক নম্বর লোক। সে সারাক্ষণ তার সঙ্গে থাকে, এবং তার কমিটির পদে রয়েছে। আমার নামে যেটা বলা হচ্ছে সেটা অপপ্রচার। এটা একেবারে মিথ্যা কথা। শুরতেই আমাকে নিয়ে মিথ্যা বলা শুরু করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ভিডিওটি আমার নজরে আসেনি। অস্ত্র কেনা বা মজুদ নিয়ে এমন কিছু হলে অবশ্যই দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, বজলু স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করছে। তার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
সোনারগাঁও থানার ওসি মুহিববুল্লাহ জানান,অস্ত্র নিয়ে আলাপচারিতার ভিডিওতে সম্পর্কে আমরা অবগত। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে এটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জানান, ভিডিও সম্পর্ক অবগত আছি। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেছেন, ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন